করণ কী: পঞ্জিকায় তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও বার দেখেছেন নিশ্চয়ই। কিন্তু তার পাশেই থাকা “করণ” শব্দটির প্রকৃত অর্থ কি জানেন? একটি তিথির অর্ধেক অংশকে বলা হয় করণ। অথচ পঞ্চাঙ্গের এই ছোট্ট সময়বিভাগের মধ্যেই রয়েছে ১১টি পৃথক করণ, যাদের প্রত্যেকটির নিজস্ব প্রকৃতি ও প্রচলিত গুরুত্ব রয়েছে।
কোন করণ শুভ বলে ধরা হয়? কেন বিষ্টি বা ভদ্র করণ নিয়ে এত আলোচনা? ৭টি চল করণ আর ৪টি স্থির করণের মধ্যে পার্থক্যই বা কী? আর শুভ মুহূর্ত নির্বাচনের সময় করণকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়?
এই প্রতিবেদনে পঞ্চাঙ্গের করণকে একেবারে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে করণ কী থেকে শুরু করে ১১টি করণের নাম, অর্থ, শুভ-অশুভ প্রকৃতি, করণের ক্রম এবং শুভ মুহূর্তে এর করণ কিভাবে নির্ণয় করা হয় সবকিছু একসঙ্গে।
✨ এই প্রতিবেদনে যা জানবেন
🪔 পঞ্চাঙ্গের করণ কী? ১১ করণের নাম, অর্থ, শুভ-অশুভ প্রভাব ও গুরুত্ব
পঞ্জিকা খুললে আমরা সাধারণত তিথি, নক্ষত্র, যোগ এবং বার এই শব্দগুলোর দিকে বেশি নজর দিই। কিন্তু এর পাশেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে, যার নাম করণ। শব্দটি ছোট, কিন্তু পঞ্চাঙ্গে এর গুরুত্ব কম নয়।
করণ কী? কেন একটি তিথির মধ্যে একাধিক করণ থাকে? ১১টি করণের নামই বা কী? কোন করণকে শুভ এবং কোনটিকে প্রতিকূল বলা হয়? আর কোনো শুভ কাজের সময় নির্বাচন করার ক্ষেত্রে করণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে হলে প্রথমেই একটি বিষয় সহজভাবে বুঝতে হবে করণ হলো তিথির অর্ধেক অংশ। অর্থাৎ, একটি তিথিকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগকে একটি করণ বলা হয়। সেই কারণেই একটি তিথির মধ্যে সাধারণভাবে দুটি করণ থাকে।
তবে এখানেই করণের বিশেষত্ব শেষ নয়। পঞ্চাঙ্গে মোট ১১টি করণ রয়েছে, কিন্তু সবগুলো একইভাবে বারবার ফিরে আসে না। এর মধ্যে ৭টি চল করণ বারবার আবর্তিত হয়, আর ৪টি স্থির করণ নির্দিষ্ট ক্রমে আসে। চলুন, পুরো বিষয়টি একেবারে সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক।
🔮 পঞ্চাঙ্গের করণ কী?
পঞ্চাঙ্গের করণ হলো একটি তিথির অর্ধেক অংশ। সূর্য ও চন্দ্রের কৌণিক দূরত্বের পরিবর্তনের ভিত্তিতে তিথি নির্ধারিত হয়। সেই তিথির অর্ধেক অংশকে বলা হয় করণ। সহজভাবে মনে রাখতে পারেন ১ তিথি = ২ করণ

আর এই করণের মাধ্যমে পঞ্জিকায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন বোঝা যায়। তাই তিথি যেখানে একটি বৃহত্তর সময়পর্বের ধারণা দেয়, করণ সেখানে সেই সময়কে আরও ছোট অংশে ভাগ করে। এই কারণেই শুভ মুহূর্ত বিচার বা দৈনিক পঞ্জিকা পড়ার ক্ষেত্রে করণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান।
🧭 করণ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
করণের হিসাবও তিথির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব ১২° করে পরিবর্তিত হলে একটি তিথি সম্পূর্ণ হয়। আর সেই তিথির অর্ধেক অর্থাৎ ৬° কৌণিক পরিবর্তনের অংশকে একটি করণ হিসেবে ধরা হয়। করণ কীভাবে নির্ণয় করা হয় তার সহজ হিসাবটি হলো –
১ তিথি = ১২°
১ করণ = ৬°
এই গণনার ভিত্তিতেই পঞ্জিকায় বিভিন্ন সময়ে করণের পরিবর্তন দেখা যায়। এখানে মনে রাখতে হবে, করণের নাম ও পরিবর্তনের সঠিক সময় নির্ভর করে সূর্য ও চন্দ্রের প্রকৃত অবস্থানের ওপর। তাই একই করণ বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন সময়ে শুরু বা শেষ হতে পারে।
🌙 পঞ্চাঙ্গে মোট কয়টি করণ?
পঞ্চাঙ্গে মোট ১১টি করণ রয়েছে। তবে ১১টি করণকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় –
🔄 ৭টি চল করণ
এগুলো বারবার নির্দিষ্ট ক্রমে আবর্তিত হয়।
🪔 ৪টি স্থির করণ
এগুলো বারবার আবর্তিত হয় না; তিথির নির্দিষ্ট অংশে নির্দিষ্ট ক্রমে আসে।
৭টি চল করণ হলো:
- বব
- বালব
- কৌলব
- তৈতিল
- গর
- বণিজ
- বিষ্টি বা ভদ্র
৪টি স্থির করণ হলো:
- শকুনি
- চতুষ্পাদ
- নাগ
- কিস্তুঘ্ন
এখানে বিষ্টি করণকে অনেক পঞ্জিকায় “ভদ্র” নামেও উল্লেখ করা হয়। তাই কোনো পঞ্জিকায় “বিষ্টি” আর অন্য কোথাও “ভদ্র” দেখলে সেটিকে দুটি আলাদা করণ মনে করার কারণ নেই।
📖 ১১টি করণের সহজ অর্থ ও প্রচলিত গুরুত্ব

এবার একে একে প্রতিটি করণকে খুব সহজভাবে দেখে নেওয়া যাক।
১. বব করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: বব একটি চল করণ এবং সাধারণভাবে অনুকূল প্রকৃতির বলে বিবেচিত।
প্রচলিত গুরুত্ব: শুভ ও স্বাভাবিক কাজের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলকভাবে ভালো বলে ধরা হয়।
২. বালব করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: বালবও একটি চল করণ এবং সাধারণত শুভ প্রকৃতির।
প্রচলিত গুরুত্ব: শিক্ষা, ধর্মীয় কাজ এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের ক্ষেত্রে এটি অনুকূল বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
৩. কৌলব করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: কৌলব একটি চল করণ।
প্রচলিত গুরুত্ব: সামাজিক সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং সাধারণ শুভ কাজের জন্য অনুকূল বলে অনেক পঞ্জিকাগত ব্যাখ্যায় ধরা হয়।
৪. তৈতিল করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: তৈতিল একটি চল করণ এবং সাধারণভাবে শুভ প্রকৃতির।
প্রচলিত গুরুত্ব: নতুন উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও গঠনমূলক কাজের ক্ষেত্রে এটি অনুকূল বলে বিবেচিত হয়।
৫. গর করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: গর একটি চল করণ এবং সাধারণভাবে শুভ।
প্রচলিত গুরুত্ব: স্থায়িত্ব, নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং বাস্তবধর্মী উদ্যোগের সঙ্গে এটি যুক্ত বলে মনে করা হয়।
৬. বণিজ করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: বণিজ নামটির সঙ্গে বাণিজ্য বা লেনদেনের ধারণার সম্পর্ক রয়েছে।
প্রচলিত গুরুত্ব: ব্যবসা, কেনাবেচা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে অনুকূল বলে প্রচলিত।
৭. বিষ্টি বা ভদ্র করণ
অর্থ ও প্রকৃতি: এটি ৭টি চল করণের শেষটি এবং প্রচলিতভাবে প্রতিকূল প্রকৃতির হিসেবে পরিচিত।
প্রচলিত গুরুত্ব: গুরুত্বপূর্ণ শুভ কাজের ক্ষেত্রে বিষ্টি বা ভদ্র করণ এড়িয়ে চলার ঐতিহ্য রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই সময়ে কোনো কাজই করা যাবে না। কাজের ধরন ও অন্যান্য পঞ্চাঙ্গ অঙ্গও বিবেচনা করা উচিত।
৮. শকুনি করণ
শকুনি হলো চারটি স্থির করণের প্রথমটি।
প্রকৃতি: প্রচলিতভাবে এটি বিশেষ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সাধারণ শুভকার্যের ক্ষেত্রে সর্বত্র ব্যবহারযোগ্য বলে ধরা হয় না।
গুরুত্ব: স্থির করণগুলোর ব্যবহার চল করণের তুলনায় আলাদা। তাই শুধু “শুভ” বা “অশুভ” শব্দ দিয়ে এর গুরুত্ব বোঝা সবসময় যথেষ্ট নয়।
৯. চতুষ্পাদ করণ
চতুষ্পাদও একটি স্থির করণ।
প্রকৃতি: সাধারণ শুভ কাজের জন্য এটি বিশেষভাবে অনুকূল বলে বিবেচিত নয়।
গুরুত্ব: প্রচলিত মুহূর্ত বিচারে এর নিজস্ব বিশেষ ব্যবহার রয়েছে এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিচার করা হয়।
১০. নাগ করণ
নাগ হলো চারটি স্থির করণের মধ্যে তৃতীয়টি।
প্রকৃতি: সাধারণ শুভকার্যের জন্য এটিকে প্রতিকূল প্রকৃতির বলে ধরা হয়।
গুরুত্ব: গুরুত্বপূর্ণ কাজের মুহূর্ত নির্বাচন করার সময় নাগ করণ থাকলে প্রচলিত পঞ্জিকা অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
১১. কিস্তুঘ্ন করণ
কিস্তুঘ্ন হলো চারটি স্থির করণের শেষ করণ।
প্রকৃতি: এটি সাধারণত শুভ ও মঙ্গলজনক কাজের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচিত হয়।
গুরুত্ব: পঞ্জাঙ্গের করণচক্রে এটি একটি বিশেষ অবস্থান রাখে এবং প্রতিদিনের সাধারণ চল করণের মতো বারবার আবর্তিত হয় না।
✨ কোন করণগুলি শুভ বলে ধরা হয়?
প্রচলিত পঞ্জাঙ্গীয় ব্যাখ্যায় বব, বালব, কৌলব, তৈতিল, গর ও বণিজ করণকে সাধারণত অনুকূল বা শুভ প্রকৃতির হিসেবে ধরা হয়। কিস্তুঘ্ন-কেও শুভ প্রকৃতির করণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে বিষ্টি বা ভদ্র, শকুনি, চতুষ্পাদ এবং নাগ সাধারণ শুভকার্যের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে প্রতিকূল হিসেবে বিবেচিত।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার, শুভ করণ মানেই সব ধরনের কাজের জন্য একইভাবে শুভ নয়। কাজের ধরন অনুযায়ী করণের উপযোগিতাও বদলাতে পারে।
⚠️ বিষ্টি বা ভদ্র করণ নিয়ে এত আলোচনা কেন?

পঞ্জিকা পড়ার সময় “ভদ্র” শব্দটি অনেকের চোখে পড়ে এবং তখনই মনে হয়, এই সময়টি নিশ্চয়ই সম্পূর্ণ অশুভ। বিষ্টি করণের আরেক নাম ভদ্র। প্রচলিত মুহূর্ত শাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ শুভ কাজের ক্ষেত্রে এই সময় এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়। কিন্তু এর অর্থ “এই সময়ে কোনো কাজ করা যাবে না” নয়। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ এবং বিশেষ ধরনের কর্মের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। তাই ভদ্র দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
করণ কি শুধু শুভ-অশুভ বোঝার জন্য?
না। এটাই করণ সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। করণকে শুধু “শুভ না অশুভ” এই দুটি বাক্সে রাখলে এর প্রকৃত ব্যবহার অনেকটাই হারিয়ে যায়। পঞ্চাঙ্গে করণ একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বকে চিহ্নিত করে। সেই সময়ের প্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি কাজের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ততা বিচার করাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থাৎ করণকে ভয় পাওয়ার বিষয় নয়; বরং পঞ্জিকার একটি সূক্ষ্ম সময়-সূচক হিসেবে বোঝাই ভালো।
⏳ করণ ও শুভ মুহূর্ত
শুভ মুহূর্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে করণ একা সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে না। প্রচলিত পঞ্চাঙ্গ বিচারে সাধারণত দেখা হয় –

বার + তিথি + নক্ষত্র + যোগ + করণ
এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট কাজের ধরন অনুযায়ী অন্যান্য জ্যোতিষীয় বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে। তাই কোনো পঞ্জিকায় “শুভ করণ” লেখা থাকলেই সেই মুহূর্তকে সব কাজের জন্য চূড়ান্তভাবে শুভ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবার প্রতিকূল করণ থাকলেই পুরো দিনটিকে খারাপ ভাবারও প্রয়োজন নেই। করণ হলো মুহূর্ত বিচারের একটি অংশ, সম্পূর্ণ বিচার নয়।
🔍 করণ ও তিথির মধ্যে পার্থক্য কী?
দুটির সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ হলেও তারা এক নয়।
| বিষয় | তিথি | করণ |
| কী বোঝায় | সূর্য-চন্দ্রের কৌণিক দূরত্বের একটি ১২° অংশ | সেই তিথির অর্ধেক, অর্থাৎ ৬° অংশ |
| একটি তিথিতে | ১টি তিথি | ২টি করণ |
| প্রধান ব্যবহার | পঞ্চাঙ্গের অন্যতম মূল অঙ্গ | তিথির আরও সূক্ষ্ম সময়বিভাগ |
| মোট নাম | ৩০ তিথি | ১১ করণ |
সহজভাবে মনে রাখুন – তিথি বড় সময়পর্ব, করণ তার অর্ধেকের আরও সূক্ষ্ম বিভাজন।
🌙 করণ বুঝে পঞ্জিকা পড়ার সহজ নিয়ম
পরের বার পঞ্জিকায় করণের নাম দেখলে শুধু নামটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। প্রথমে দেখুন –
- ১. কোন করণ চলছে?
- ২. সেটি কখন শুরু ও শেষ হচ্ছে?
- ৩. আপনার কাজটি কী ধরনের?
- ৪. একই সময়ে তিথি, নক্ষত্র ও যোগ কী রয়েছে?
এই চারটি বিষয় একসঙ্গে দেখলেই পঞ্জিকার তথ্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।
🌼 শেষ কথা
পঞ্চাঙ্গের করণ আসলে সময়কে আরও সূক্ষ্মভাবে বোঝার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। তিথি যেখানে একটি বৃহত্তর সময়পর্বের পরিচয় দেয়, করণ সেখানে সেই সময়কে আরও ছোট ভাগে দেখতে সাহায্য করে। ১১টি করণের মধ্যে কিছু চলমান, কিছু স্থির; কিছু সাধারণ শুভ কাজের জন্য অনুকূল বলে ধরা হয়, আবার কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়।
তবে করণের নাম দেখে ভয় পাওয়া বা একটি করণকে কেন্দ্র করে পুরো দিনকে ভালো-মন্দ বলে দেওয়া দুটিই অতিরঞ্জিত ধারণা। পঞ্জিকার আসল সৌন্দর্য এখানেই একটি সময়কে শুধু একটি শব্দ দিয়ে নয়, একাধিক সূচকের মাধ্যমে বোঝা। আর সেই বৃহত্তর পঞ্চাঙ্গের মধ্যে করণ হলো একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিঃ দ্রঃ পঞ্চাঙ্গের করণের সময় স্থানভেদে এবং পঞ্জিকা বা গণনাপদ্ধতি অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ শুভ কাজের আগে আপনার স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী সময় যাচাই করে নেওয়া ভালো।
🔄 ৭টি চল করণ ও ৪টি স্থির করণের পার্থক্য

১১টি করণকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয় – চল করণ এবং স্থির করণ।
🔄 চল করণ কী কী
চল করণ হলো:
- বব
- বালব
- কৌলব
- তৈতিল
- গর
- বণিজ
- বিষ্টি
এই সাতটি করণ নির্দিষ্ট ক্রমে বারবার আবর্তিত হয়। তাই এগুলোকে চল করণ বলা হয়। পঞ্জিকায় প্রতিদিন করণের নাম পরিবর্তিত হতে দেখা যায় মূলত এই আবর্তনের কারণেই।
🪔 স্থির করণ কী কী
চারটি স্থির করণ হলো –
- শকুনি
- চতুষ্পাদ
- নাগ
- কিস্তুঘ্ন
এগুলো চল করণের মতো বারবার আবর্তিত হয় না। চন্দ্রপক্ষের নির্দিষ্ট তিথির নির্দিষ্ট অংশে এগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে আসে।
সহজভাবে মনে রাখুন:
৭টি করণ ঘুরে ঘুরে আসে, ৪টি করণ নির্দিষ্ট জায়গায় আসে।
এই পার্থক্যটি বুঝে গেলে পঞ্জিকায় করণের পরিবর্তন অনেক সহজে বোঝা যায়।
📜 করণের ক্রম কীভাবে চলে?
করণের ক্রম প্রথমবার শুনলে একটু জটিল মনে হতে পারে। কিন্তু মূল ধারণাটি সহজ। প্রথমদিকে কিস্তুঘ্ন-এর পর থেকে সাতটি চল করণ
বব 👉 বালব 👉 কৌলব 👉 তৈতিল 👉 গর 👉 বণিজ 👉 বিষ্টি
এই ধারায় বারবার চলতে থাকে। এরপর নির্দিষ্ট পর্যায়ে চারটি স্থির করণ
শকুনি 👉 চতুষ্পাদ 👉 নাগ 👉 কিস্তুঘ্ন
আসে এবং আবার চল করণের আবর্তন শুরু হয়। অর্থাৎ ১১টি নাম থাকলেও প্রতিদিন ১১টি করণ একবার করে দেখা যায় না। এটাই করণ সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। তাই কোনো পঞ্জিকায় একটি দিনের করণ দেখে পরের দিনের করণ অনুমান করার সময় শুধু ১১টি নামের তালিকা মুখস্থ করলেই হবে না; করণের নির্দিষ্ট ক্রমটিও বুঝতে হবে।
❌ করণ নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
“ভদ্র করণ মানেই সব কাজ বন্ধ”
এটি ঠিক নয়। বিষ্টি করণের আরেক নাম ভদ্র। গুরুত্বপূর্ণ কিছু শুভকার্যে এটি এড়িয়ে চলার প্রচলন থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে ভদ্র চলাকালীন কোনো কাজই করা যায় না।
“শুভ করণ মানেই সব কাজের জন্য শুভ”
এটিও ঠিক নয়। করণের প্রকৃতির পাশাপাশি কাজের ধরন, তিথি, নক্ষত্র, বার ও অন্যান্য মুহূর্তের বিষয় বিবেচনা করা হয়।
“একটি অশুভ করণ মানেই পুরো দিন অশুভ”
না। করণ একটি নির্দিষ্ট সময়পর্ব। করণ পরিবর্তিত হলে পরবর্তী করণ শুরু হয়। তাই একটি নির্দিষ্ট করণের প্রকৃতি দিয়ে পুরো দিনকে বিচার করা ঠিক নয়।
“করণ আর তিথি একই জিনিস”
না। একটি তিথির অর্ধেক হলো একটি করণ। তাই দুটির সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু তারা এক নয়।
“করণ একাই শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ করে”
এটিও ভুল। করণ হলো পঞ্চাঙ্গের একটি অঙ্গ মাত্র। নির্দিষ্ট শুভ মুহূর্তের জন্য একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিচার করা হয়।
শেষবারের মতো সহজ করে মনে রাখুন করণ কী
- তিথি আপনাকে সময়ের একটি বড় অংশ বোঝায়।
- করণ সেই তিথিকে আরও সূক্ষ্মভাবে ভাগ করে।
- ১১টি করণের মধ্যে ৭টি চল এবং ৪টি স্থির।
- আর কোনো কাজের শুভ-অশুভ বিচার করতে করণকে একা নয়, পুরো পঞ্চাঙ্গের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
এইটুকু মনে রাখলেই পঞ্জিকায় “করণ” লেখা দেখলে আর বিষয়টি কঠিন মনে হবে না।
❓ পঞ্চাঙ্গের করণ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
করণ সম্পর্কে পাঠকদের মনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সহজ ও সংক্ষিপ্ত উত্তর এখানে দেওয়া হলো।







